কি হবে যদি ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত ব্ল্যাকহোল একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়,কি এই ব্ল্যাকহোল হয়তো সবাই জানে তবুও যদি কেউ না জানে তাদের জন্য বলে দি ব্ল্যাক হোল ব্রম্ভান্ডের দৈত্যাকার কালো স্থান যার গ্রাভিটেশনাল ফোর্স এতটাই বেশি যে সে তাঁর কাছে আসা সমস্ত গ্রহ উপগ্রহ তারা নক্ষত্র এমনকি আলোকে ও চুষে নিতে পারে।এর মহাকর্ষ থেকে আলো বের হতে পারে না তাই এর রং কালো স্বাভাবিক ভাবেই বুঝতে পারছ একে ব্ল্যাকহোল বলা হয় কেন?
প্রধানত ৪ ধরনের ব্ল্যাকহোল আমরা দেখতে পাই----
1.Stellar Blcak Hole
2.Supermassive Black Hole
3.Intermediate Black Hole
4.Miniture Black Hole
সব থেকে কাছের ব্ল্যাকহোল টি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় 1600 আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত,এক আলোকবর্ষ মানে আলোর গতিতে গেলে আমরা এক বছরে যত দূর যেতে পারবো।পৃথিবী থেকে মহাকাশ যতদূর পর্যন্ত দেখা যায় তার মধ্যে 100 বিলিয়ন গ্যালাক্সি আছে আর প্রতিটি গ্যালাক্সিতে আছে শত শত বিভিন্ন সাইজের ব্ল্যাকহোল।সেই ব্ল্যাকহোল গুলি সেই সর্বদাই তৈরি থাকে তার ইভেন্ট হরাইজনের কাছে আসা সমস্ত কিছুকে নিজের দিকে টেনে নেওয়ার জন্য,কিন্তু কি হবে যদি ঐ সমস্ত ব্ল্যাকহোল বলি একে অপরের কাছে আসে ।আমরা ওই ব্ল্যাকহোল গুলিকে চোখে দেখতে পাই না কেউ কেউ তো বলে এদের কোনো অস্তিত্বই নেই তবে আমরা এদের অস্তিত্ব বুঝতে পারি যখন বড় বড় তারা নক্ষত্ররা এর চারদিকে আবর্তন করে ।আমাদের জানা প্রায় সমস্ত গ্যালাক্সির কেন্দ্রে একটি ব্ল্যাকহোল থাকে যা ক্ষুদার্থ দানবের মত ঐ গ্যালাক্সিকে তার মাঝখান থেকে খেতে থাকে এবং তাদের থেকে আয়োনায়িস মেটার আলোর গতিতে বিচ্ছুরিত হয় কিছু ব্ল্যাকহোল এতটাই বড় হয় যে এদের সাইজ আমাদের পক্ষে বলে বোঝানো যাবে নাও।সব থেকে বড় যে ব্ল্যাক হোল খুঁজে পাওয়া গেছে তা আমাদের সূর্যের থেকে 17 বিলিয়ন গুন বড় আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে যে সুপার্মাসিভ ব্লাক হলেস আছে তার নাম SAGITTARIUS A STAR ঐ দানব আকার ব্ল্যাকহোলটি আমাদের সূর্যের থেকে 4.1 মিলিয়ন বরং এটি 26 হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।আর যখন আমরা কথা বলছি তখন ওই ব্ল্যাকহোল টি কিন্তু আমাদের চাঁদের ওজনের পাঁচগুণ পদার্থ ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে,হয়তো এটা খুব একটা বেশি নয় কারণ SAGITTARIUS একে আমরা একটা স্লিপিং জায়েন্ট বলতে পারি তবে এর ঘুম ভাঙতেই পারে যদি অন্য কোন একটা ব্ল্যাকহোলের সাথে ধাক্কা খায়। সর্বদাই এর সম্পর্কে আমরা নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার করছি ।অনেকে বলছে ব্ল্যাকহোল গুলি নাকি একই জায়গায় থাকে সরে না কিন্তু এটা মোটেই সত্য নয়। রিসেন্টলি Hubble Telescope একটি ব্ল্যাকহোল ধরা পড়ে ব্যাপার হল এটা সরে সরে যাচ্ছিল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় হয়তো কোন এক কারণে এটি এর গ্যালাক্সি থেকে বেরিয়ে এসেছে ।বর্তমানে এটি প্রায় 2 হাজার কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড গতিতে ছুটছে।তারমানে একটি ভবঘুরে ব্ল্যাকহোল মহাকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে যা আমাদের সূর্যের থেকে প্রায় 1 বিলিয়ন বড় ।কিছু ছিল যার জন্য ওই ব্ল্যাকহোল নিজের জায়গা থেকে সরতে বাধ্য হয়েছে হয়তো আর একটা ওর থেকেও বড় ব্ল্যাকহোল। এবার যদি ওই সুপার্মাসিভ ব্ল্যাকহোল আমাদের গ্যালাক্সির কাছে আসে তবে যে বিধ্বংসী মহাজাগতিক ঘটনা ঘটবে তা আমাদের কল্পনার বাহিরে।মহাকাশে ব্ল্যাক হোল আছে যা আমরা গুণে শেষ করতে পারবো না, কিন্তু ঐ সমস্ত ব্ল্যাকহোল গুলি যদি একে অপরের কাছে আসে ও ধাক্কা খায় তবে আমাদের চেনা ব্রহ্মাণ্ড সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।সুপার্মাসিভ বড় ব্ল্যাকহোলে আছে যারা খুব ইজিলি ছোটগুলোকে গেলে নেবে এবং আগের থেকে আরো বড় ব্ল্যাকহোলে পরিণত হবে,যদি আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রে যে ব্ল্যাক হেয়ার অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি কেন্দ্রে যেটা আছে তারা যদি একে অপরের সাথে ধাক্কা খায় ও তার সাথে আশেপাশের সব ব্ল্যাকহোল গুলিও মিশে যায় তবে হয়তো ব্ল্যাক হোল টা তৈরি হবে তা 2 গ্যালাক্সি কে ধ্বংস করে দিতে পারে।সমস্ত তারা গ্রহ নক্ষত্র নিমেষেই ব্ল্যাক হোলের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যাবে। দানবীয় ওই মহাকর্ষ বলের কারণে তাঁর সাথে তাঁর ধাক্কা লাগবে একটি গ্রহ অন্য গ্রহের উপর বা নক্ষত্রের উপর আছড়ে পড়বে,দেখতে দেখতে নিমেষে শেষ হয়ে যাবে সম্পূর্ণ আকাশগঙ্গা আর তৈরি হবে আরো নতুন নতুন ব্ল্যাকহোল এই ঘটনাটি ঘটতে পারে কারণ আমরা ধীরে ধীরে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি দিকে সরে সরে যাচ্ছি ।3 বিলিয়ন বছর পর মানুষ যদি বেঁচে এই পৃথিবীতে তবে রাতের আকাশে আমরা খালি চোখেই অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি কে দেখতে পাব,আর তা ধীরে ধীরে আরো কাছে আসবে আমাদের আর একসময় এসে ধাক্কা খাবে আমাদের গ্যালাক্সির সাথে।এই ঘটনার পর দুটি গ্যালাক্সি একসাথে মিশে যাবে এবং এর কেন্দ্রে উৎপন্ন হবে এক জায়েন্ট সুপার্মাসিভ ব্লাক হোল এতো বড় এত শক্তিশালী যা আমরা আগে কখনো দেখিনি।
😊যদি ভালো লাগে সাবস্ক্রাইব না করে চলে যাবেন না আর একটা সাবস্ক্রাইব তো আপনার কাছ থেকে পাওয়ার আশা করতেই পারি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে আজ এই পর্যন্তই আবার দেখা হবে পরের আর্টকেল

Post a Comment