আমাদের মিল্কিওয়ে একটা জায়গেনটিক গ্যালাক্সি যাকে আমরা আমাদের আশ্রয়স্থান মানি। এর ব্যয় প্রায় এক লক্ষ আলোকবর্ষ সুতরাং আমরা যদি আলোর গতিতে যায় তবুও এক লক্ষ বছর লাগবে আমাদের গ্যালাক্সির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছাতে। কিন্তু যদি আমি আপনাকে বলি আপনি আপনার জীবনকাল এর মধ্যেই প্রায় সমস্ত মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি কে এক্সপ্লোর করতে পারবেন তাও আবার আলোর গতি ছাড়াই। শুধু একটা জিনিস আপনার মাথায় রাখতে হবে আপনার ত্বরণ যেন কনস্ট্যান্টলি 1G থাকে বন্ধুরা বেগ ও ত্বরণে এখানে গুলিয়ে ফেলবেন না।
বেগ=মিটার/সেকেন্ড
ত্বরণ=মিটার/সেকেন্ড2
G মানে এখানে অভিকর্ষজ ত্বরণ। অবাধে পতনশীল কোনো বস্তুর ত্বরণ কাজ করে (G=মিটার/সেকেন্ড2 )এর মান 9.8 মিটার পার সেকেন্ড স্কয়ার।যদি কাল্পনিক স্পেসশিপ ঐ অকল্পনীয় ত্বরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় তবে আপনি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে গিয়ে আবার পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবেন মাত্র 40 বছরের মধ্যে। কিভাবে টাইম ডাইলেশন এর জন্য কিন্তু, আপনি 40 বছর পর যখন পৃথিবীতে ফিরে আসবেন ততক্ষণে পৃথিবীতে ৬৫ হাজার বছর কেটে যাযবে। অতএব আপনি ফিউচার পৃথিবীতে ল্যান্ড করবেন যেখানে আপনার চেনা কেউ বা কিছু থাকবে না। সম্ভব হলে একবার কল্পনা করে দেখুন ওই গতিতে আপনার কাটানো মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পৃথিবীতে কত প্রজন্ম জন্ম নেবে বড় হবে আবার মারা যাবে। কিন্তু আপনি অনুভব করবেন মাত্র একটাই ঘন্টা এটাই আপনার এক্সপেরিয়েন্স হবে যদি আপনি হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরে কোন কাল্পনিক গ্রহে সময় কাটান। ধরে নিয়েছে গ্রহটির নাম ZR 42A সৌরমণ্ডলের সবথেকে বড় গ্রহ বৃহস্পতি থেকে হাজার গুন বড়, সুতরাং পৃথিবী থেকে ৩ লক্ষ 17 হাজার 800 গুণ বড় হবে,বস্তুর ভর বাড়লে অভিকর্ষজ ত্বরণ বৃদ্ধি পায় বলতে পারেন দুটিরাশি সমানুপাতী,অতএব ZR 42A নামক গ্রহে অভিকর্ষ বল পৃথিবীর থেকে তিন লক্ষ 17 হাজার 800 গুণ বেশি হবেম এত শক্তিশালী বলের কারণে আপনি গ্রহের উপর দাঁড়াতে পারবেন নািমি. আপনার সহ্য করতে পারবেনা দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে যাবে, একটা ডিমের উপর হাত দিয়ে সজোরে আঘাত করলে যা হয় আরকি। আইনস্টাইন বলেছিলেন সময় কোন কনস্ট্যান্ট নয় বা কোন শক্তি ও নয় এটা একটা মেটেরিয়াল স্পেস দিয়ে বোনা আছে যা আমরা পরবর্তীকালে স্পেস-টাইম হিসেবে জেনেছি।সময়কে টেনে সংকুচিত ও প্রসারিত করা সম্ভব এমনকি সময়কে বেন্ট করাও সম্ভব, অতএব আপনার কাছে সব থেকে বড় বস্তুর ভর ও অভিকর্ষ বলের সাথে আপনার সময় রিলেটিভ্,আমাদের ক্ষেত্রে বস্তুটি হলো আমাদের পৃথিবী, এবার তাহলে বুঝতে পারছেন যদি আপনি আমাদের ওই ইমাজিনারি প্লানেট ZR 42Aসময় কাটাতে পারেন তবে সময় আপনার কাছে যে গতিতে কাটবে পৃথিবীতে তার থেকে বহু গুণ দ্রুত কাটবে। এই ঘটনাকে টাইম ডাইলেশন বলে।গ্রেবিটেশন্যাল ফ্রোস বাড়ার সাথে সাথে সময়ের প্রস্পেক্টিভ পাল্টে যায়, টাইমের বেন্ডিং ঘটে সাথে সাথে ঘটে টাইম ডাইলেশন,যখন অভিকর্ষ দুর্বল হয় সময় দ্রুত গতিতে কেটে যায় বিপরীতভাবে যখন অভিকর্ষ শক্তিশালী হয় তখন সময় ধীরে ধীরে কাটে। কিন্তু তা ঘটবে শুধুমাত্র আপনার জন্যই,অতএব আপনি যদি পৃথিবী থেকে 1G হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরে ইমাজিনারি প্লানেট ZR 42A তে গিয়ে একদিন কাটতে সক্ষম হন তবে ফিরে এসে দেখবেন পৃথিবীতে হাজার হাজার বছর কেটে গেছে আর আপনি পারবেন এক ভবিষ্যতের পৃথিবীতে।এই ইফেক্টটা মোটেও কাল্পনিক নয় এটা আপনার প্রতিদিনের খাওয়া ঘুমোনোর মতন বাস্তব, আর হ্যাঁ আপনি ঠিকই ধরেছেন এটাও এক ধরনের টাইম ট্রাভেল কারণ আপনি পৌছাতে পারবেন ভবিষ্যতে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে টাইম ডাইলেশন এ পাওয়ারফুল নয় তাই আমরা বুঝতেও পারিনা কিন্তু আপনি যদি আমাদের সৌরমণ্ডলের সবথেকে বড় গ্রহ বৃহস্পতি থাকেন তবে সেখানে এক সেকেন্ড কাটার মানে পৃথিবীতে এক সেকেন্ড.২০ নেনো সেকেন্ড কেটে যাবে ।তবুও তা আপনার লাইফে করতে পারবে না ঠিকই কিন্তু এতে কোনো দ্বিমত নেই যে টাইম ডাইলেশন সম্পূর্ণটাই বাস্তব আরো ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল কোন ব্ল্যাকহোলের ইভেন্ট হরাইজনের কাছে গ্র্যাভিটেশনাল ফোর্স এতটাই ও শক্তিশালী হয় যে কোন কিছুর থেকে নিস্তার পায়না। এইরকম স্থানে যদি আপনি সময় কাটাতে পারেন ও বেচে ফিরতে পারেন যদিও তা সম্ভব নয় স্পিকোডিফিকেশন থেকে বেঁচে ফেরা তবুও বলি সে ক্ষেত্রে আপনার কাটানো প্রতিটি মিনিটে পৃথিবীতে কয় ঘন্টা এমনকি কয়েক বছর কেটে যেতে পারে ।সঠিক ভাবে কতটা সময় কাটবে তা তো আমি বলতে পারব না কারণ ব্ল্যাকহোলের কাছে কখনো ঘড়ি নিয়ে আমি যাইনি যদি কোনদিন যে আপনাদের নিশ্চয়ই বলবো ততদিন অনুমান নিয়েই কাজ চালাতে হবে। টেকনিক্যালি আপনি কিন্তু টাইম ট্রাভেল করলেন না তবে বলা যায় সময় আপনার কাছে পৃথিবীর থেকে বহুগুণ ধীরে কাটল।সম্পূর্ণটাই আপনার রিলেটিভ মানে আপেক্ষিক এর থেকেই আসছে আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটি।এই রিলেটিভিটি টাইম ডাইলেশন থেকে কেউই বাঁচতে পারে না এমনকি আমাদের পৃথিবী ও না।পৃথিবীর অভিকর্ষ পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে কাজ করে এই কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের বয়স আড়াই বছর কম অবাক হলেন। আরো একটা আমেজিন ইফেক্টটের কথা বলি আপনি যদি দুটো ঘড়ি পড়েন একটা আপনার হাতে আরেকটা আপনার পায়ে তবে বহু বছর পর ধীরে ধীরে আপনি লক্ষ্য করবেন হাতের ঘড়িটা থেকে পায়ের ঘড়িটা স্লো চলতে শুরু করেছে, কারণ পায়ের ঘড়িটা অভিকর্ষ বলের কাছে থাকবে। এতক্ষণ আমি আপনাদের যা কিছু বললাম সবই ছিল গ্র্যাভিটেশনাল টাইম ডাইলেশন। এর আরো একটা দিক আছে যা আমাদের গতির উপর নির্ভর করে, গতির জন্য টাইম ডাইলেশন ঘটতে পারে। আমরা অলরেডি দেখলাম কিভাবে বিশাল বড় তাদের অভিকর্ষ সময়কে ভেন্ট করতে পারে ও সময়ের গতিকে স্লো করে দেয়।কিন্তু এর পরের আর্টিকেলে দেখব কিভাবে বস্তুর গতিবেগ এর জন্য টাইম ডাইলেশন ঘটে।

Post a Comment